নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান তিনি।
অমিত বলেন,আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে এবং গর্বের সাথে বলতে পারি— বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি কখনোই হয়নি, বর্তমানে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি আমাদের মজুদ আছে। আপনারা গতকাল বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পর্যন্ত আশঙ্কা করছে যে তাদের হাতে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল রয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশেও ছয় সপ্তাহ সমপরিমাণ জেট ফুয়েল রয়েছে। আমাদের এপ্রিল ও মে মাসের যে জ্বালানি চাহিদা সেটি আমরা সংগ্রহ করেছি এবং যেটি নিশ্চিত সরবরাহ লাইনে আছে এবং সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি এপ্রিল এবং মে মাসে যে চাহিদা, সেটি পূরণের পূর্ণ সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে। সেটি আমরা নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়ায় এখন মূলত জুন মাসের প্রয়োজন মেটাবার জন্য আমরা কাজ করছি।
রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে জানিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানের মেটেরিয়ালস বলতে যেটা বোঝানো হয়, সেটি হচ্ছে ক্রুড অয়েল, যেটি মূলত দুটি সোর্স থেকে আসে। একটি হচ্ছে সৌদি আরব, অপরটি আরব আমিরাত থেকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুটো সোর্স থেকেই আসে।
তিনি বলেন, আমরা এই বছরের জানুয়ারি মাসে আমাদের যেটি আসবার কথা, সেটি এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যে ক্রুড অয়েল আসবার কথা ছিল, সেটিও এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরু হবার পর মার্চ ও এপ্রিল মাসে যে শিডিউল ছিল, সেগুলো হ্যাম্পার করেছে।
বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সেটা যেমন রিফাইন অয়েল অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ আমরা ক্রুড অয়েলও সংগ্রহ করবার চেষ্টা করেছি। সেখানে আমরা একটা কার্গো ক্রয়ও করেছি, যদিও সেটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সাপ্লাই করতে পারেনি। আরো দুটো কার্গো (ক্রুড অয়েলের) স্ট্যান্ড বাই রয়েছে, আমরা আশা করছি এই মাসের শেষার্ধে একটি কার্গো শিপ পৌঁছাবে। এমতাবস্থায় সাময়িকভাবে আমাদের যে প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি (ইস্টার্ন রিফাইনারির), সেটা কিছুটা হলে কমপ্রোমাইজড হয়েছে। এটা নিয়ে হয়তো বা কিছু প্রশ্ন এসছে। আপনাদের মধ্যেও কিছু জিজ্ঞাসা রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ফুল ক্যাপাসিটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি যদি রান না করে, তাহলে যেন জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে- সেজন্য সরকার পরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহের মাত্রা বাড়িয়েছিল, যাতে করে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতে ক্রুড অয়েলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম গত সোমবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন পাঁচটি ইউনিটের দুটি ওইদিন বন্ধ হয়ে যায়। বাকি তিনটি ইউনিটে ‘ডেড স্টক’ দিয়ে শোধন কার্যক্রম চালু রাখার কথা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তরফে জানানো হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সারাবছর নিরবচ্ছিন্নভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারি চলার কারণে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে রক্ষণাবেক্ষণের যেটা লং ডিউ ছিল, ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছি।
দুবাইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও কিন্তু তারা এই সুযোগে রক্ষাবেক্ষণে ১৮ মাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে তারা এরকম একটি সুযোগে তাদের রক্ষণবেক্ষণ গুলো করবার চেষ্টা করে। আমরা এই সুযোগে রক্ষণবেক্ষণটা শেষ করে ফেলছি, যাতে করে এই মাসের শেষে যখন ক্রুড অয়েল আসবে- আমরা যেন একটা ফুল ক্যাপাসিটিতে (ইআরএল) রান করতে পারি।
সংবাদ কর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরু হবার পর থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথেই আপনাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আমরা এটা আপনাদেরকে সাধুবাদ জানাই। আমি মনে করি জ্বালানি সেক্টর নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের এখন যে পরিমাণ তথ্য আছে, অন্য কোনো সেক্টর নিয়ে এতো তথ্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে নেই এবং এটার পুরো কৃতিত্ব আপনাদের।
তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য পরিবেশনার ক্ষেত্রে আমরা যদি সকলে একটু সতর্ক করতে পারি, তাহলে তা অহেতুক কোন আতঙ্ক কিংবা উদ্বেগ সৃষ্টি করবে না; বরং আতঙ্ক কিংবা উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করবে।








